বর্তমানে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দ্রুততম মাধ্যম হয়ে উঠেছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন বিকাশ (bKash) ও নগদ (Nagad)। ব্যাংকে লাইন ধরার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি মায়ের বা স্ত্রীর মোবাইল ওয়ালেটে কয়েক সেকেন্ডে টাকা পৌঁছে যায় এবং ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সময় এটিএম বুথ বা এজেন্ট থেকে ক্যাশ তোলা সম্ভব।
বিদেশ থেকে বিকাশ বা নগদে টাকা পাঠানোর ধাপসমূহ
- আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অ্যাপ ব্যবহার: প্রবাসী কর্মীরা তাদের স্মার্টফোনে TapTap Send, Remitly, Wise, WorldRemit বা Placid Express অ্যাপ ডাউনলোড করবেন।
- বাংলাদেশ ও কারেন্সি সিলেক্ট: কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন করে টাকার পরিমাণ লিখবেন।
- ডেলিভারি মেথড: Mobile Wallet নির্বাচন করে bKash অথবা Nagad বেছে নেবেন।
- প্রাপকের ১১ ডিজিটের নম্বর: প্রাপকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সচল বিকাশ বা নগদ একাউন্ট নম্বর ও পুরো নাম লিখবেন।
- পেমেন্ট সম্পন্ন: প্রবাসীর স্থানীয় ব্যাংক কার্ড (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) দিয়ে পেমেন্ট কনফার্ম করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাংলাদেশে টাকা ক্রেডিট হয়ে যাবে।
এটিএম বুথ থেকে হাজারে মাত্র ৭ টাকায় ক্যাশআউট সুবিধা
সাধারণ বিকাশ এজেন্ট থেকে ক্যাশআউট করতে যেখানে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা বা ১৪.৯৯ টাকা খরচ হয়, সেখানে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক এটিএম বুথ থেকে তুললে খরচ হয় হাজারে মাত্র ৭ টাকা!
- ব্র্যাক ব্যাংক এটিএম: দেশের যেকোনো ব্র্যাক ব্যাংক এটিএম থেকে বিকাশ অ্যাপ দিয়ে ওটিপি জেনারেট করে হাজারে ৭ টাকায় ক্যাশআউট করা যায়।
- সিটি ব্যাংক এটিএম: সিটি ব্যাংকের আধুনিক কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক এটিএম বুথ থেকেও বিকাশ রেমিট্যান্স সাশ্রয়ী খরচে তোলা যায়।
- ডাচ-বাংলা ফাস্ট ট্র্যাক (রকেটের জন্য): রকেটে রেমিট্যান্স এনে ডিবিবিএল ফাস্ট ট্র্যাক বুথ থেকে হাজারে মাত্র ৯ টাকায় টাকা তোলা যায়।
রেমিট্যান্সের দৈনিক ও মাসিক লেনদেন সীমা (Limits)
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একজন গ্রাহক তার বিকাশ বা নগদ একাউন্টে দৈনিক সর্বোচ্চ ১,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৩ বার) এবং মাসে সর্বোচ্চ ৪,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত (সর্বোচ্চ ৮ বার) রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেন। রেমিট্যান্সের জন্য কোনো সাধারণ পার্সোনাল ওয়ালেট লিমিট প্রযোজ্য হয় না।